চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় শুরু হয়েছে নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন (NIOHC)-এর ২৫তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সোমবার (১১ মে ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
সম্মেলনে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা (IHO)-এর পরিচালক, নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, সামরিক ও অসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌপ্রধান (অপারেশন্স) এবং ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটি ও নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য মেরিটাইম রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও একটি স্বতন্ত্র “ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফার” প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। তিনি জানান, এ ধরনের কর্তৃপক্ষ দেশের সামগ্রিক হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের সমন্বয় ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে নিরাপদ নৌচলাচল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের অগ্রগতি, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে। এছাড়া উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সমন্বয়, কারিগরি সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার অধীন ১৫টি আঞ্চলিক কমিশনের মধ্যে নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন অন্যতম, যা ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্দামান সাগর থেকে এডেন উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে কমিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার ও মিশরসহ বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি অংশ নেন। এছাড়া সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, মরিশাস ও সেশেলসের প্রতিনিধিরাও যোগ দেন। পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সুদানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের জন্য নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে।