কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১৩ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার এবং চার রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) আওতাধীন পালংখালী বিওপি-এর একটি বিশেষ টহল দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আনজুমানপাড়া সুইচ গেইট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় টহল দল সীমান্তের বেড়িবাঁধ দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে বস্তা বহন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে দেখে তাদের থামার সংকেত দেয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা বস্তা ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে চারজনকে আটক করা হয়। তবে তাদের সহযোগীরা পানিপথ ব্যবহার করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটকরা হলেন—
মো. একরাম (২৭), এফডিএমএন ক্যাম্প-১৬, ব্লক বি-২;
মো. আয়েচ (২৪), এফডিএমএন ক্যাম্প-১৫, ব্লক জি-৬;
মো. সাবেদ (১৬), এফডিএমএন ক্যাম্প-১৭, ব্লক এইচ-৮২;
মো. সাবেদ (২১), এফডিএমএন ক্যাম্প-১৫, ব্লক জি-৮।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১৩ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও অন্য কোনো অবৈধ মালামাল পাওয়া যায়নি।
বিজিবি জানায়, উখিয়া ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় যাতে সার, তেল ও অন্যান্য বাংলাদেশি পণ্য অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচার হতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও চোরাচালানে নিরুৎসাহিত করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি সার, তেল ও অন্যান্য পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক, চোরাচালান এবং সার পাচার প্রতিরোধেও সবসময় কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”