কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক কিশোরকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর হোয়াইক্যং বিওপির একটি বিশেষ টহল দল কোনাপাড়া পোস্ট সংলগ্ন নাফ নদীর খাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবি জানায়, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে একটি পোটলা হাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের সময় মো. বোরহান উদ্দিন (১৭) নামে এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করতে দেখে টহল দল ধাওয়া করে। এ সময় তিনি নাফ নদীপথে সাঁতরে পালানোর চেষ্টা করলেও বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করতে সক্ষম হন।
অভিযান চলাকালে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তার মা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং নৌকার বৈঠা দিয়ে এক বিজিবি সদস্যকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময়ে আশপাশের কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আটক ব্যক্তি ও জব্দ করা আলামত নিরাপদে বিওপিতে নিয়ে যান।
পরবর্তীতে আটক ব্যক্তির বহন করা পোটলা তল্লাশি করে খাকি রঙের একটি প্যাকেটের ভেতরে থাকা নীল রঙের কার্টন থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবাগুলো এনে একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহের উদ্দেশ্যে তিনি বহন করছিলেন বলে বিজিবির দাবি।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
তিনি আরও জানান, রামু সেক্টরের অধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে মাদক,অপহরন,অস্ত্র ও সন্ত্রাস দমনে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।