চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ইয়াবা বিক্রির নগদ অর্থসহ এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) পতেঙ্গা মডেল থানা। গ্রেপ্তারকৃত মোঃ ওমর ফারুক (আন্ডা ফারুক) এর আগেও একাধিক মাদক মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পতেঙ্গা মডেল থানার মোল্লাঘাটা থেকে ফুলছড়িপাড়া বটতলা রোডের আজিজ সাহেবের বাড়ির সামনের পাকা সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন মোঃ ওমর ফারুক (আন্ডা ফারুক) ৩৮। সে ইউসুফ আলীর ছেলে ও জাহানারা বেগমের সন্তান। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ পতেঙ্গার দক্ষিণপাড়া আলী মিয়ার নতুন বাড়ি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পতেঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ পারভেজ আলীকে বিষয়টি অবহিত করার পর এসআই (নিঃ) নিদর্শন বড়ুয়া-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অংশ নেন এসআই কাজী রজিবুল ইসলাম, এসআই এম. নাজিবুল ইসলাম তানভীর, এসআই সৈয়দ ফকরুল ইসলাম, এএসআই মো. নাজমুল হক ও এএসআই উজ্জ্বল শেখসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য।
রাত ৯টা ২০ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মোঃ ওমর ফারুক (আন্ডা ফারুক) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সন্দেহজনক আচরণের কারণে তাঁকে আটক করে দেহ তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় তাঁর পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট থেকে একটি নীল রঙের এয়ারটাইট পলিপ্যাকেটে রাখা ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে একটি ছোট টিনের কৌটার ভেতর বিশেষ কায়দায় মোড়ানো ছয়টি স্টিক থেকে আরও ৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে তাঁর কাছ থেকে ২৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, যার আনুমানিক ওজন প্রায় ২৬ গ্রাম, এবং ইয়াবা বিক্রির ১ হাজার ৪২০ টাকা জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করা হয় এবং আসামিকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোঃ ওমর ফারুক (আন্ডা ফারুক) স্বীকার করেন যে, তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে মাদকসেবীদের কাছে খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন এবং বিক্রির জন্য ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণি-১০(ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একাধিক মামলার আসামি- পুলিশের সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মোঃ ওমর ফারুক (আন্ডা ফারুক)'র বিরুদ্ধে এর আগেও পতেঙ্গা মডেল থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি মাদক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ২০১৯, ২০২১ (দুটি), ২০২৩, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের পৃথক মামলাগুলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একই ধরনের ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, বারবার আইনের আওতায় আসার পরও তিনি মাদক কারবার থেকে সরে আসেননি। ফলে তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল এবং সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত পতেঙ্গা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, উপকূলীয় এই এলাকায় মাদক ব্যবসা নির্মূলে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং কোনোভাবেই মাদক কারবারিদের ছাড় দেওয়া হবে না।