
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের (বিএ অনার্স) ছাত্র ফয়সাল মিয়া (আইডি নং-২০১০২১৩০) দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনার সুবিধার্থে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি পাহাড়তলী থানাধীন এক আইনজীবী মোঃ আফতাব উদ্দিন (আলতাফ)-এর ৪ তলা ভবনের একটি ভাড়া বাসায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান করতেন।
সেই সূত্রে ২০২৩-২০২৪ সাল থেকে উক্ত আইনজীবীর পরিবারের সাথে ফয়সালের পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে তিনি তাদের সন্তানদের গৃহশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, ফয়সাল মিয়ার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানার ৫ নং ওয়ার্ডের মাসুয়া ইউনিয়নে। পড়াশোনা ও কর্মসূত্রে তিনি ২০২৩ সালের শুরুতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে আসেন। পরবর্তীতে আইনজীবীর স্ত্রী বিবি ফাতেমার সাথে তার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে পারিবারিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে ফয়সাল ও তার মাকে উক্ত বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে আইনজীবী আফতাব উদ্দিন তার স্ত্রীকে আদালতের আপোষনামার মাধ্যমে তালাক প্রদান করেন। প্রায় ৫-৬ মাস পর ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক ফয়সাল মিয়া ও পূর্ব পরিচিত বিবি ফাতেমা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবী আফতাব উদ্দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফয়সাল মিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করছেন।
ফয়সাল মিয়া ছাত্রজীবনে বিভিন্ন সামাজিক ও আন্দোলনমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলেও তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য নন বলে দাবি করা হয়। এমনকি আওয়ামী যুবলীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা নেই মর্মে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যয়নপত্রও রয়েছে বলে জানানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আইনজীবী আফতাব উদ্দিন ব্যক্তিগত আক্রোশ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ফয়সাল, তার মা আমেনা বেগম এবং আত্মীয়-স্বজনদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছেন। এতে পরিবারটি চরম মানসিক ও সামাজিক সংকটে পড়েছে।
ফয়সালের মা আমেনা বেগম একজন অসহায় গার্মেন্টস কর্মী। তিনি বিভিন্ন দপ্তর ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে বিষয়টির সুরাহার চেষ্টা করলে তাকেও ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বর্তমানে ফয়সাল ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নগরীর বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।
আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মানবাধিকার সংস্থা ও দেশের সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে—একজন নিরীহ শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
একইসাথে মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, বিজ্ঞ আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে।
আমরা গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে প্রচার করে একটি অসহায় ছাত্র ও তার পরিবারকে ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করুন।